স্ট্রোকের ২ মাস আগেও শরীর দেয় এই ৬টি ইঙ্গিত! জানুন কী কী
লেখক: স্বাস্থ্য ডেস্ক
স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মুহূর্তের মধ্যেই একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক। তবে অনেকেই জানেন না, স্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শরীর কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস আগেই কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের প্রায় ১ থেকে ২ মাস আগে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
১. হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো
বারবার মাথা ঘোরা, হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া কিংবা অকারণে পড়ে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম লক্ষণ হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
কী করবেন?
- দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
২. এক পাশের হাত বা পায়ে দুর্বলতা
যদি হঠাৎ করে শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল অনুভূত হয়, তবে এটি মিনি-স্ট্রোক বা TIA (Transient Ischemic Attack)-এর লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান।
সতর্কতা:
- হাত তুলতে সমস্যা হওয়া
- পা টেনে হাঁটা
- জিনিসপত্র ধরতে অসুবিধা
৩. কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা
স্ট্রোকের আগে অনেকেরই কথা জড়িয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও সহজ বাক্য বলতেও কষ্ট হয় বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হয়।
লক্ষণগুলো হতে পারে:
- কথা অস্পষ্ট শোনা
- ভুল শব্দ ব্যবহার করা
- কথোপকথনে বিভ্রান্তি
৪. হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি (Double Vision) অথবা সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া স্ট্রোকের আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।
কেন হয়?
মস্তিষ্কের যে অংশ দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
৫. তীব্র ও অস্বাভাবিক মাথাব্যথা
আগে কখনও না হওয়া ধরনের তীব্র মাথাব্যথা স্ট্রোকের সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা দৃষ্টি ঝাপসা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
৬. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ
অনেক রোগী স্ট্রোকের কয়েক সপ্তাহ আগে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শক্তিহীনতা এবং মানসিক অবসাদের কথা জানান। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কারা বেশি?
নিচের ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি:
- উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি
- ধূমপায়ী
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি
- উচ্চ কোলেস্টেরল থাকা ব্যক্তি
- হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী
- পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে
স্ট্রোক প্রতিরোধে যা করবেন
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
জরুরি সতর্কবার্তা
যদি হঠাৎ মুখ বেঁকে যায়, কথা জড়িয়ে যায় বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে পড়ে, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যান। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে এবং স্থায়ী অক্ষমতা কমাতে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন, শরীরের দেওয়া ছোট ছোট সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করবেন না। সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।