স্ত্রী ছাড়া কার সাথে স′’হবা’স করা যা…see

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানবজীবনের পবিত্রতা, পারিবারিক বন্ধন এবং সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ইসলাম কিছু স্পষ্ট বিধান দিয়েছে। এর মধ্যে নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং যৌন জীবনের বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ যৌন সম্পর্কের একমাত্র স্বীকৃত পথ হলো বৈধ বিবাহ। একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের পারস্পরিক দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ হয়। এর বাইরে কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে তারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং বৈধ সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবৃত্ত হয় না। কারণ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ফলে পারিবারিক ভাঙন, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামাজিক অস্থিরতা এবং নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। তাই ইসলাম শুধু অবৈধ সম্পর্ককেই নিষিদ্ধ করেনি, বরং এমন সব কাজ থেকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যুবকদের বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং যারা বিবাহ করতে সক্ষম নয় তাদের সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের চরিত্র রক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। একজন মুসলিমের জন্য নিজের দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকে ইসলামের সীমার মধ্যে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান যুগে নানা প্রলোভন ও অনৈতিকতার বিস্তার ঘটলেও একজন ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য হলো আল্লাহর ভয় অন্তরে ধারণ করা এবং বৈধ পথে নিজের জীবন পরিচালনা করা। দাম্পত্য জীবন শুধু শারীরিক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অতএব, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী বৈধ বিবাহ ছাড়া অন্য কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েজ নয়। একজন মুসলিমের উচিত নিজের চরিত্রের হেফাজত করা, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং বৈধ ও পবিত্র জীবনযাপন করা। এর মাধ্যমেই ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি, কল্যাণ এবং আল্লাহর রহমত অর্জন সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *