এই বৃদ্ধ লোকটিকে স্ত্রী ও মেয়ে মিলে নির্যা’তনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেটি স’ত্যি নয়। ভু’লবুঝা’বুঝি বা অপপ্র’চার।
বৃদ্ধের ছেলে আমাদের এক বন্ধু। বর্তমানে সে আমেরিকায় পিএইচডির জন্য অবস্থান করছে। বাসায় আংকেলকে দেখাশোনা করেন আন্টি আর আপু।
আংকেল গত দুই-তিন বছর ধরে মান’সিক ও শারী’রিকভাবে খুবই অসু’স্থ। দুবার স্ট্রো’ক করেছেন। উনার যখন মন ভালো থাকে, তখন সবার সাথে ভালো আ’চরণ করেন। কিন্তু অন্য সময়ে বাসার সবার সাথে খুব খা’রাপ ব্যবহার করেন। উনাকে কিছু করতে নি’ষেধ করলে সবচেয়ে বেশী রে’গে যান। কাপড়চোপরও ন’ষ্ট করে ফেলেন।
সবচেয়ে ভয়’ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, উনি মোবাইল মানিব্যাগ কিছুই ব্যবহার করেন না। হুট হাট বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে আর ফেরত আসতে পারেন না। বেশ কয়েকবার হা’রিয়ে গিয়েছিলেন।
উনার শিক্ষিকা স্ত্রী এবং মেয়ে তাকে পাগ’লের মতো হন্যে হয়ে খুঁজেন। থানায় জিডি করেন। এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। উনি কুমিল্লার মানুষ অথচ উনাকে কখনও সাভার থেকে উ:দ্ধার করা হয়। কখনও আবার ভিন্ন কোন স্থান থেকে।
ভাবতে পারেন? দুজন মহিলার জন্য এটা কত ক’ষ্টের? মেয়ের জামাইও ঢাকায় চাকুরী করেন। পরিবারে আর কোন পুরুষ মানুষ নেই।
ভিডিওতে আপনারা লাঠি দেখেছেন মা-মেয়ের হাতে। মূলত লাঠি শুরুতে ছিলো আংকেলের হাতে। উনিই মা:রতে উদ্যত হোন। উনার লা’ঠি কে’ড়ে নেওয়া হয়।
ভিডিওতে উনারা বৃদ্ধ মানুষটাকে বারবার ঘরে ঢুকতে বলছিলেন। শুধুমাত্র হা’রিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। ভয় দেখিয়ে যেন ঘরের ভেতরে যাতে কোনভাবে ঢুকিয়ে নিরাপদে রাখতে পারে।
লাঠি হাতে, বৃদ্ধের শরীরে আ’ঘাতের ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু লাগলেও উনারা নিরূ’পায় ছিলেন। যা ঘটেছে পুরোটাই অনি’চ্ছাকৃত।
থানার ওসিসহ পুলিশ এসেছিলো। ওসি আপুকে দেখে চিনে ফেলেন, পূর্বে আংকেল হা’রিয়ে যাওয়ার জিডির সূত্র ধরে। উনারা পুরো ঘটনা যাচাই করে গিয়েছেন।
ভিডিও দেখলেই বুঝতে পারবেন, উনার মেয়ে। আপু প্রেগন্যান্ট! উনার স্ত্রীও একজন শিক্ষিকা। স্কুলে থাকতে হয়। দুজনের উপর প্রচুর প্রেসার যায় একটা মানুষকে সামলাতে।
আংকেলকে প্রায়ই Dr. Avijit Das Saikat ভাই চেকআপ করেন। উনি এই পরিবারকে একদম কাছ থেকে চিনেন জানেন। নিজের বন্ধুর অবর্তমানে আংকেলকে সাধ্যমতো সেবা দেন। এমনকি সাভার থেকে উদ্ধার করার সময় উনিই ছুটে গিয়েছিলেন।
উক্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সব জায়গায় মা-মেয়েকে নিয়ে অনেক আজে’বা’জে কথা বলা হচ্ছে। যা দেখে উনাদের পরিবার খুব মানসিকভাবে বিপ’র্যস্ত।
আর ”প্রবাসফেরত বাবাকে মেয়ে স্ত্রীর অ’ত্যা’চার করা” মাছরাঙ্গা টিভি যেই শিরোনাম করেছে। মাছরাঙ্গা টিভি! আপনারা ঘটনা যাচাই করেছেন?
উনি ২০০৫ সালেই প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। ২০টা বছর আগের ঘটনা। কিন্তু এমনভাবে লিখেছেন যেন, উনি প্রবাস থেকে ফিরেই নি’র্যা’তিত হচ্ছেন।
পুরোটাই ভু’ল বুঝাবুঝি। দয়া করে আপনারা এই ঘটনার সত্যতাটা জানুন।