আসিফ মাহমুদের দু’/র্নীতি নিয়ে অবস্থান বদলাল দুদক

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি নিয়ে অবস্থান বদলাল দুদক, আগের বক্তব্যকে বলল ‘স্লিপ অব টাং’

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নিজেদের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা সংশোধন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার পর দুদক সচিব জানিয়েছেন, ওই বক্তব্যটি ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ‘স্লিপ অব টাং’। অর্থাৎ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুদক দেয়নি।

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগগুলোকে অনুসন্ধানের জন্য ‘আমলযোগ্য’ মনে করা হয়েছে। সে কারণেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

কী অভিযোগ রয়েছে?

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল দুদক। পরে আরও কিছু অভিযোগ চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

দুদকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগে বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পদ গড়ার যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলোও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য চাওয়ার জন্য পারস্পরিক আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি?

না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক অনুসন্ধান করছে এবং অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুদক সচিবও বলেছেন, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং আগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বক্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউর কাছে চিঠি দিয়েছে দুদক। ফলে অনুসন্ধানটি এখন আর শুধু বক্তব্য বা অভিযোগ যাচাইয়ের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দুদকের বর্তমান অবস্থান হলো—অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের মতো আমলযোগ্য মনে হয়েছে, কিন্তু অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধান শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *