প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড
প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন এক বাবা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের মেয়েকেই হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পারিবারিক ও প্রতিবেশী বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য নিজের সন্তানকে হত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগই ঘটনাটিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তোলে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রতিবেশীকে সন্দেহের মধ্যে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। শুরুতে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও তদন্তকারীরা একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেন।
পরবর্তীতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।
এই রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিজের সন্তানকে হত্যা করে অন্য একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা—এমন অভিযোগে আদালতের কঠোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তবে যেকোনো মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে আসামির আপিল ও আইনগত প্রতিকারের সুযোগ থাকে। ফলে আদালতের রায়ের পরও পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকবে।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিশোধের কারণে অপরাধের পথ বেছে নিলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো—অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনায় প্রাণ হারাতে হয়েছে নিজেরই সন্তানকে।