প্রথম ধা’পে ৬৩ জেলার ৮০ উপজেলায় ইউপি নি’র্বাচন, বাদ থাকবে একটি জেলা…Seemore

প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন, বাদ থাকবে একটি জেলা

ব্রেকিং নিউজ: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের সময়সূচি সামনে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবার সাত ধাপে আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬

প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০ উপজেলা

ইসি জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে নির্বাচনের আওতায় আসবে এসব উপজেলার সব ইউনিয়ন।

তবে পুরো পরিকল্পনাটিই এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করা হতে পারে।

ফলে ১২ নভেম্বরের তারিখ এবং প্রথম ধাপের উপজেলার তালিকাকে আপাতত কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাদ থাকবে ঠাকুরগাঁও জেলা

প্রথম ধাপের পরিকল্পনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে একটি জেলার বাদ পড়া। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রথম ধাপে থাকবে না।

এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচনের বিষয় রয়েছে। এ কারণে সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রথম ধাপে না করে দ্বিতীয় ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

অর্থাৎ প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার নির্বাচন হলেও ঠাকুরগাঁওকে এই ধাপের বাইরে রাখা হচ্ছে।

সাত ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে না। ভোট আয়োজন করা হবে সাতটি ধাপে।

প্রাথমিকভাবে ধাপগুলোর সম্ভাব্য সময়সূচি হলো—

  • প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর ২০২৬
  • দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৬
  • তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬
  • চতুর্থ ধাপ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৭
  • পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
  • ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল ২০২৭
  • সপ্তম ধাপ: ২৭ মে ২০২৭

তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত তফসিল নয়। কমিশনের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

কেন ধাপে ধাপে নির্বাচন?

দেশের ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় একদিনে সারাদেশে ভোট আয়োজন না করে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়েও ধাপগুলো সাজানোর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ কমিয়ে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।

প্রায় ৪ হাজার ৫৮০ ইউনিয়নে নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার একটি সময়সীমা তৈরির কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

তবে সব ইউনিয়নের ভোট একই বছরের মধ্যে শেষ হবে না। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো ২০২৭ সালেও গড়াবে।

প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে প্রস্তুতি

ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশের পর চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা বাড়তে পারে। বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগ, মতবিনিময় এবং সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তুতিও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশের পর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময় জানা যাবে।

ভোটারদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

প্রথম ধাপে যেসব উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে, সেসব এলাকার ভোটারদের এখন থেকেই নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলের দিকে নজর রাখতে হবে।

বিশেষ করে কোন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোট হবে, ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে এবং ভোটার তালিকায় কারা অন্তর্ভুক্ত—এসব বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

এখনো চূড়ান্ত নয়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১২ নভেম্বরকে এখনই চূড়ান্ত নির্বাচনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নির্বাচন কমিশনার নিজেই জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।

তাই তফসিল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন পরিকল্পনায় বড় তথ্য হলো—প্রথম ধাপে ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। তবে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রথম ধাপে বাদ থাকবে এবং সেখানে দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও পুরো সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আরও পরিষ্কার হতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ হলে কোন উপজেলার কোন ইউনিয়নে কবে ভোট হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *