হি/ন্দু শি’ক্ষকের সাথে ছা’/ত্রদল নে’/ত্রী উ’/ধাও… See more

শিক্ষকের সঙ্গে ‘উধাও’ ছাত্রদল কর্মী—মোবাইল লোকেশন ঘিরে আলোচনার পর সামনে এলো নতুন দাবি

রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক ছাত্রী ও একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি যাওয়ার কথা বলে হোস্টেল থেকে ছুটি নেওয়ার পর ওই ছাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না—এমন দাবি করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক শিক্ষকও ছুটিতে থাকায় দুজনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ওই ছাত্রীর নাম মেহেরুন নাহার মৌ এবং শিক্ষকের নাম অসীম কুমার ঘোষ বলে উল্লেখ করা হয়। মেহেরুন আইএইচটির ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। অন্যদিকে অসীম কুমার ঘোষ একই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেহেরুন হোস্টেল ছাড়ার অনুমতি নেন। ছুটির আবেদনে বাড়িতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়। তবে পরে তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিনের বক্তব্য প্রকাশ করা হয় যে, মেয়ে বাড়িতে পৌঁছাননি। একই সময়ে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষও দুই দিনের ছুটি নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপরই ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে মোবাইল ফোনের লোকেশন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের কারণে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীর মোবাইল ফোনের অবস্থান বরিশাল সদর এলাকার কাছাকাছি একই জায়গায় পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের দুজনকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিবেদনে মেহেরুনের এক সহপাঠীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের কথা বলা হয়। তবে এসব বক্তব্য ছিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি বা সূত্রনির্ভর তথ্য; কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যকে সরাসরি সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি নিয়ে নতুন বক্তব্য সামনে আসে। ১৩ সেপ্টেম্বর আইএইচটি প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে প্রকাশিত খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, যথাযথভাবে তথ্য যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মানববন্ধনে মেহেরুন নাহার মৌ নিজেও তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্যকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিনও একই বক্তব্য দেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেহেরুন দাবি করেন, যে সময়ে তাঁকে ‘নিখোঁজ’ বলা হয়েছিল, সে সময়ে তিনি বাসায় ছিলেন।

ফলে প্রথম দিকের প্রতিবেদনে যে ‘শিক্ষকের সঙ্গে উধাও’ ধরনের দাবি উঠে এসেছিল, সেটি এখন আর একতরফাভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। একদিকে রয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিখোঁজ ও মোবাইল লোকেশনসংক্রান্ত তথ্য, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী, তাঁর পরিবার এবং আইএইচটির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এসব দাবিকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবস্থান কিংবা চরিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত বক্তব্যকে যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কোনো দাবি বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটির উৎস, সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে সতর্ক অবস্থান হলো—ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে এবং ‘শিক্ষকের সঙ্গে উধাও’ হওয়ার দাবিটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *