ব্রেকিং নিউজ: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আগের সূচিতে আসছে পরিবর্তন?
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাত ধাপে ভোট আয়োজনের একটি প্রাথমিক সময়সূচি জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর ইসি জানিয়েছে, ওই তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রয়োজন হলে পুরো সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
এর আগে ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
তবে এসব তারিখ ঘোষণার সময় থেকেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এগুলো প্রাথমিক সম্ভাব্য তারিখ, চূড়ান্ত তফসিল নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিভিন্ন পরীক্ষা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভার পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও তখন রমজান থাকায় সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকেন। ফলে নির্বাচনের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচির সংঘাত এড়ানো ইসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই আগের সম্ভাব্য তারিখগুলো নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষার্থী বা শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ভোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে কয়েক দফা আলোচনা ও কমিশন সভার পর চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তী আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রথম ধাপের বিষয়ে আগের পরিকল্পনায় ১২ নভেম্বরের কথা বলা হলেও বর্তমানে সেটিকে চূড়ান্ত ভোটের তারিখ হিসেবে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন নিজেই জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ধাপের সংখ্যা কমানো বা সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে।
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৬ জুন ২০২৭-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচন পেছালেও পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি। এত বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট আয়োজন না করে ধাপে ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর চাপ ভাগ করে দেওয়া সম্ভব হবে।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিধান কার্যকর হয়েছে। ফলে আগের দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
সব মিলিয়ে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আগের যে ১২ নভেম্বর, ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বরসহ সাত ধাপের তারিখ প্রকাশ করা হয়