ছেলের খোঁজ নেই দুইদিন ধরে,বাসায় ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে দেখল…see more

শুক্রবার (২২ মে) সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও এখন পর্যন্ত আরিফ মিয়া ওরফে সালমানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ আরিফ মিয়া ওরফে সালমান উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের মো. ফজলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

পরিবারের সদস্যরা এখনো বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সন্ধান চাওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ইতোমধ্যে হোসেনপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সালমান। পরে উপজেলার ইলিছ প্রধান বাজারের মোড়ে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, প্রতিদিনের মতো কিছু সময় বাইরে থেকে রাতেই বাড়ি ফিরে আসবেন তিনি। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বন্ধু-বান্ধবসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে সালমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন (১৯ মে) হোসেনপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা মো. ফজলুর রহমান। এরপর থেকেই ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আরিফের বাবা মো. ফজলুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে কোনো কিছু না বলেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছে। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান পাইনি। মোবাইল ফোনটাও বন্ধ। পরিবার নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। কেউ যদি আমার ছেলের কোনো তথ্য জানেন, তাহলে আমাদের জানানোর অনুরোধ করছি।”

স্থানীয়রা জানান, সালমান শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত। হঠাৎ তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে খোঁজ চাচ্ছেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার যাকে সন্দেহ করছে, তাকে ও তার অভিভাবকদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছেলেটির মোবাইল ফোন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। এটি নিছক নিখোঁজের ঘটনা, নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *