সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম। ইসলামে শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে শাসনের অনুমতি থাকলেও, একে ‘বেত্রাঘাত’ বা ‘রক্তাক্ত’ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে তারা জানান।
শিক্ষার্থীদের প্রহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সেক্রেটারি মুফতি সানাউল্লাহ খান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাওয়া প্রহারের ভিডিওগুলো থেকে বোঝা যায় যে, এগুলো ক্রোধ ও আক্রোশের জায়গা থেকে করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের উচিত মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এই প্রথা বন্ধ করা।
ইসলামি আইন অনুযায়ী, ১০ বছরের আগে শিশুকে শাসন করা নিষিদ্ধ এবং ১০ বছরের পর কেবল নামাজের মতো বিষয়ে মৃদু শাসনের অনুমতি থাকলেও মুখে বা স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা এবং শরীরে দাগ ফেলা সম্পূর্ণ হারাম। এ বিষয়ে লেখক ও মুহাদ্দিস মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী বলেন, ইসলামি আইন অনুযায়ী ১০ বছরের কম বয়সি শিশুকে শাসন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১০ বছর বয়সের পর নামাজের মতো বিষয়ে মৃদু শাসনের অনুমতি থাকলেও মুখে বা স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করা এবং দাগ ফেলা হারাম। যেখানে নামাজের মতো ফরজ ইবাদতের চেয়ে পড়াশোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেখানে পড়াশোনার জন্য শিশুকে মারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ।
শিক্ষকদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদানের পরামর্শ দিয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী বলেন, শিক্ষকদের উচিত চাইল্ড সাইকোলজি বা শিশু মনোবিজ্ঞান নিয়ে কোর্স করা, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে পড়াতে পারেন। শ্রেণিকক্ষে এমন পরিবেশ থাকা প্রয়োজন যেখানে শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর পরম বন্ধু, যার কাছে সে সব কথা বলতে পারে।

Reporter Name 













