প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও শেষ একটা সুযোগ ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে হারাতে পারলে পরের রাউন্ডের টিকিট পেতে পারতো লাল-সবুজের দল। তবে সেই সুযোগটাও হাতছাড়া হয়ে গেলো। গোলকিপার মিলির একটা ভুলে ভিয়েতনামের বিপক্ষে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলো বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ননথাবুরিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারে ১-০ গোলের ব্যবধানে। ৪৯তম মিনিটে ভিয়েতনামের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন থি থু লিন এনগুয়েন। সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়, আর তাতেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের এশিয়ান কাপের শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। প্রথম দুই ম্যাচে থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ এবং চীনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারের পর এই ম্যাচেও পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হলে অন্তত তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হতো বাংলাদেশকে। তবে তিন ম্যাচেই হেরে বাংলাদেশ নিজেদের গ্রুপে হয়েছে চতুর্থ।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বড়দের এশিয়ান কাপে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হেরে আসর শেষ করেছিল বাংলাদেশ। সেই হতাশার রেশ কাটার আগেই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বেও একই চিত্র দেখা গেল। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা হারিয়ে আগেভাগেই বিদায় নিতে হলো দলটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই জমে ওঠে দুই দলের লড়াই। প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি আসে বাংলাদেশের সামনে। ১৩তম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান সাগরিকা। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড চিপ শটে জাল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, তবে শটটি ঠিকভাবে না হওয়ায় সহজেই বলটি লুফে নেন ভিয়েতনামের গোলরক্ষক লি থি থু।
২৬তম মিনিটেও একইভাবে সুযোগ পেয়েছিলেন সাগরিকা। অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে সামনে এগোলেও বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সেটি শেষ পর্যন্ত গোলকিপারের দখলেই চলে যায়।
বাংলাদেশের আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে ভিয়েতনাম। ২৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে এনগান থি থানের নেওয়া শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়— লক্ষ্যে থাকলে বিপদ বাড়তে পারত বাংলাদেশের। ৩৩তম মিনিটে আবারও লং পাস থেকে সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিল তারা, তবে সতর্ক মিলি আক্তার দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন দলকে।
বিরতির পরপরই ম্যাচের গতি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই থি থুই লিনহ’র গোলে এগিয়ে যায় ভিয়েতনাম। ৫৩তম মিনিটে বক্সের ভেতরে ভালো অবস্থানে থেকেও শট নিতে পারেননি উমহেলা মারমা; ডিফেন্ডারের চাপে বল হারিয়ে যায় তার পা থেকে।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল ভিয়েতনাম। ৮৬তম মিনিটে আড়াআড়ি ক্রস থেকে থি থুই লিনের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বড়দের উইমেন’স এশিয়ান কাপের মতোই বয়সভিত্তিক আসরেও হতাশার পুনরাবৃত্তি ঘটল বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র পর্যায়ের টুর্নামেন্টে যেমন তিন ম্যাচেই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল বাটলারের দল, তেমনি অনূর্ধ্ব-২০ আসরেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো তাদের।

Reporter Name 













