এই ছেলেটাকে আপনাদের মনে আছে তো?
যার মা, আমিনা খাতুন, চাকরিরত অবস্থায় চার বছর আগে মা%রা যান। মায়ের মৃ-ত্যু-র পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরিবার কল্যাণ তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃ-ত্যু-র কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও ৮ লাখ টাকা মোট ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা শাহেদের।
কিন্তু নিজের মায়ের মৃ-ত্যু+র পর প্রাপ্য সেই ১০ লাখ টাকা পেতেও শাহেদকে দিতে হতো ১ লাখ টাকা ঘু-ষ!
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরাসরি শাহেদকে বলে দেন, “ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না।”
শাহেদের বয়স মাত্র ১৭ বছর। ঘুষ দেওয়ার বদলে শাহেদ খুলে ফেললেন “ঘুষ সাইট” নামে একটি ওয়েবসাইট। সেখানে কারা ঘুষ চাইছে, কারা ঘুষ নিচ্ছে এসব তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর শুরু হয় হুমকি-ধমকি।
এতকিছুর পর অবশেষে সরকারের টনক নড়ে। ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভাবছেন, কঠিন কোনো শাস্তি দেওয়া হয়েছে?
না ভাই, এত কঠিনও না! 
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
ব্যস! শাস্তি শেষ। 
কি কিউট শাস্তি, তাই না?
একজন ছেলে নিজের মায়ের মৃ-ত্যু-র পর প্রাপ্য ১০ লাখ টাকা পেতে গিয়ে ঘুষের দাবি শুনবে। ঘুষ না দিয়ে প্রতিবাদ করবে, ওয়েবসাইট খুলে বিষয়টি প্রকাশ করবে, হুমকি সহ্য করবে আর শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তি হবে এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় বদলি!
নিজের ন্যায্য পাওনা পেতে ঘুষ দিতে হবে এটাই যদি বাস্তবতা হয়, আর ঘুষ চাওয়ার শাস্তি যদি হয় শুধু বদলি, তাহলে দুর্নীতিবাজরা ভয় পাবে কিসের?
এতকিছুর পরও আপনারা আশা করেন, একদিন এই দেশ বদলে যাবে!
হ্যাঁ, বদলাবে তো…
কিউট শাস্তি আর কিউট ব্যবস্থার দেশ হিসেবে! 