ডিসেম্বরে দেশে ফেরা হচ্ছে না শেখ হাসিনার? বাড়ছে অনিশ্চয়তা, সামনে একাধিক প্রশ্ন
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আইনি জটিলতা, ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ এবং দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে চান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে।
কিন্তু এরপর সময় যত এগিয়েছে, ডিসেম্বরের ফেরার বিষয়টি ততই জটিল হয়ে উঠেছে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনি জটিলতা, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিস্থিতির কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁর ফেরার বিষয়ে দৃশ্যমান প্রস্তুতি বা অগ্রগতির অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ও ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলো। দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে—এ বিষয়টি তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
এর পাশাপাশি ভারত সরকারের অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে তিনি নিজে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তবে কখন এবং কীভাবে ফিরবেন, সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না।
তবে এখানেই রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের নেতাদের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে ভারত হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি দলীয় সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন; শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এমন নির্দিষ্ট পথ বা তারিখের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এদিকে ১৩ সেপ্টেম্বর সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সময় ও পথ স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যেও ডিসেম্বরের ফেরার ঘোষণাটি রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
ফলে বর্তমানে দুটি ভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে রয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনার নিজের ঘোষণা—তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরতে চান। অন্যদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাবর্তন এখনো নিশ্চিত নয়। আবার দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফেরার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশিত হয়েছে।
এ কারণে “ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন না”—এটিকে এখনই নিশ্চিত খবর হিসেবে বলা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট তারিখ বা পথ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসবে, ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক, আইনি প্রক্রিয়া এবং শেখ হাসিনার নিজের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত তিনি আদৌ ডিসেম্বরেই ফিরবেন কি না, নাকি তাঁর প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে যাবে—তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি developments-এর ওপর।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ডিসেম্বরে দেশে ফেরা হচ্ছে না” শিরোনামটি আপাতত নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তার খবর হিসেবে দেখা উচিত। শেখ হাসিনা নিজে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তারিখ ও প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।