রিমান্ডে এমপি নজরুল: মরিয়মকে বিয়ে ও ঘটনার বিষয়ে কী জানালেন?
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর রিমান্ডের বিষয়টি। প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলার অভিযোগে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মরিয়মকে বিয়ে করেছিলেন নজরুল
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে চলতি বছরের জুনে হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পর মরিয়ম তাঁর স্বামী ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে ঢাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে নজরুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের বিয়ের কথা জানান।
রিমান্ডে কী তথ্য পাওয়া গেছে?
রিমান্ডে গাজী নজরুলকে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, বিয়ে, সংসারজীবন এবং মৃত্যুর দিনের ঘটনাপ্রবাহসহ মামলার বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানা গেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “রিমান্ডে গিয়ে নজরুল সবকিছু স্বীকার করে নিয়েছেন”—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি বা আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, মামলার বিভিন্ন বিষয় এখনো তদন্তকারীরা যাচাই করছেন।
মৃত্যুর ঘটনায় কী অভিযোগ?
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
মরিয়মের বাবা পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে স্বামী ও প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন এবং এসব কারণে মরিয়ম আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো বাদীপক্ষের অভিযোগ—তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
চিরকুট নিয়েও চলছে তদন্ত
মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব চিরকুটে তাঁর ব্যক্তিগত কষ্ট ও সম্পর্কের বিষয়ে কিছু কথা লেখা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চিরকুটগুলো সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা নিয়েও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বাবা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি মেয়ের হাতের লেখা খুব ভালোভাবে চিনতেন না। ফলে চিরকুটের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত এখন ডিবিতে
ঘটনার পর মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্