বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের একমাত্র ‘প্রধানমন্ত্রী চ্যান্সেলর’….![]()
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) আইন, ১৯৯২ পাসের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চ্যান্সেলর হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া….
বাংলাদেশে সাধারণত সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বা আচার্য হন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। কিন্তু ১৯৯২ সালের ২১শে অক্টোবর যখন ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হয়, তখন এর মূল আইনে বিশেষ ধারা যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যান্সেলর করার বিধান রাখা হয়েছিল। এই সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাউবি-র প্রথম চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সমাবর্তনে অংশ নেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এই আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিকে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেওয়া হয়…
ফলাফল, দেশের ইতিহাসে একমাত্র তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরাসরি সমাবর্তনের তখতে বসে গ্র্যাজুয়েটদের মেডেল পরিয়ে দিয়েছিলেন। একেই বলে সত্যিকারের রয়্যাল স্টাইল!
চ্যান্সেলর বেগম খালেদা জিয়া নিজেই ঐ সমাবর্তন গাউন আর ক্যাপ পরে ক্যাম্পাসে হাজির হয়েছিলো। কিন্তু প্রথমবার হওয়ায় বাউবি-র নিজেদের পর্যাপ্ত গাউনই ছিল না! তখন চ্যান্সেলরের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শত শত গাউন ধার করে এনে প্রথম সমাবর্তন সফল করা হয়েছিল।
আর সেই মহেন্দ্রক্ষণেই আলোকচিত্রী শরীফ শাহাবুদ্দিন বেগম জিয়ার সেই চিরপরিচিত ট্রাডিশনাল লুকের বাইরে, একাডেমিক ড্রেসের এক ঐতিহাসিক ও রাজকীয় ছবি ফ্রেমবন্দি করেন।
সমাবর্তনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কোনো পলিটিক্যাল ফাঁকা আওয়াজ দেন নাই। সোজা ব্যাটে ছক্কা মেরে বলেছিলেন, “শিক্ষা কোনো বয়সের ফ্রেমে বন্দি নয়।”
যে কর্মজীবী ভাইটি পেটের দায়ে পড়া ছেড়েছেন, কিংবা যে গৃহিণী বোনটি সংসারের ফেরে কলেজে যেতে পারেন নাই, বাউবি যেন তাদের জন্য ঘরে বসেই নতুন আকাশ ছোঁয়ার দুয়ার খুলে দেয়। রেডিও, টেলিভিশন আর ডাকযোগের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এই আইডিয়াটা তখনকার বাংলাদেশে এক অবিশ্বাস্য বৈপ্লবিক চিন্তা ছিল!
ইতিহাস সাক্ষী, বেগম খালেদা জিয়ার এই একটি বছর (১৯৯২) বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ম্যাপ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ওয়ান ম্যান শো-র মতো তিনি তিনটা বড় কাজ করলেন।
১.ঝরে পড়া আর দূরশিক্ষণের জন্য করলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২.সারা দেশের কলেজগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিকায়নের জন্য এক ঝটকায় আনলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
৩.আর দেশের ট্যালেন্ট যেন বাইরে পাচার না হয়, বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলতে পাস করলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন।
এর সাথে প্রাথমিক শিক্ষায় ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ আর মেয়েদের জন্য ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষার মডেলে তৃণমূলের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা আজও অনবদ্য।ইতিহাস কাউকে লাউড স্পিচের জন্য মনে রাখে না, ইতিহাস মনে রাখে দূরদর্শী ভিশনের জন্য।
দূরদর্শী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ ‘বেগম খালেদা জিয়া’!