দুই মাসে ২৬ ট্রা’ন্সফরমার চু’/রি, স্বে’চ্ছাসেবক দল নে’তাস’হ গ্রে’/ফতার ৫…see more

দুই মাসে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত দুই মাসে একের পর এক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় একটি চক্রকে শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত প্রায় দুই মাস ধরে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু ট্রান্সফরমারের মূল্যই নয়, এগুলো চুরি যাওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদেরও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে সেচনির্ভর কৃষি ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এতে বেশি সমস্যায় পড়ে।

এদিকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালায়। পরে সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার অবিনুর, সেলিম, সুমন ও সুমন ওরফে নুরু মিয়া এবং গাবেরগ্রাম এলাকার রাসেল মিয়া। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাসেল মিয়া মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

ট্রান্সফরমার চুরির কারণে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা তৈরি হচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর খরচ নিয়েও গ্রাহকদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরি বন্ধে রাতে টহল বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি এবং চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ কোথায় বিক্রি হচ্ছে তা শনাক্ত করা জরুরি।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যাবে না। পুলিশ তদন্ত করছে এবং আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একটানা ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মাদারগঞ্জের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে চুরির পুরো নেটওয়ার্কের রহস্য উদ্ঘাটন হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *